একই প্রতিমায় দুই রূপ। অর্ধেক দুর্গা, অর্ধেক কালী। আর পুজোর অন্যতম আকর্ষণ ‘শত্রুবলি’। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুভাষগ্রামের ঘোষ পরিবারের দুর্গাপুজো তাই আর পাঁচটা বনেদি বাড়ির পুজোর মতো নয়। এই প্রতিমার নেপথ্যে রয়েছে স্বপ্নাদেশের কাহিনি। রয়েছে প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো এক অলৌকিক বিশ্বাস। ১৮৬৪ সালে পূর্ববঙ্গের ঢাকার বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডলে শুরু হয়েছিল এই পুজো।

পরিবারের কর্তা হরিকিশোর ঘোষ স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। সেই নির্দেশ মেনেই শুরু হয় দেবীর আরাধনা। প্রতিমা তৈরির পর পটুয়া বিগ্রহে হলুদ রং করেন। কিন্তু আচমকাই বদলে যায় প্রতিমার রং। ডানদিক কালো হয়ে যায়। হরিকিশোরের স্বপ্নে দেখা রূপের সঙ্গে মিলে যায় সেই ছবি। এরপর থেকেই অর্ধদুর্গা ও অর্ধকালী রূপে দেবীর পুজো শুরু। একচালার প্রতিমার ডানদিকে কালী। বাঁদিকে দুর্গা। ডান পা সিংহের পিঠে। বাঁ পা মহিষাসুরের কাঁধে।
দেশভাগের পর এপার বাংলায় চলে আসে ঘোষ পরিবার। সুভাষগ্রামে শুরু হয় নতুন করে বসতি। কিন্তু পুজোর রীতিতে বদল আসেনি। ললিতাসপ্তমীতে কাঠামো পুজো হয়। তারপর ঠাকুরদালানে প্রতিমা তৈরি শুরু। সপ্তমীর সকালে চক্ষুদান। এরপর দর্পণ স্নান। গঙ্গার জল, তিন সমুদ্রের জল, দুধ, শিশির, মধু-সহ ১০৮ ধরনের জল ব্যবহার করা হয়। পুজোর তিনদিন আখ ও চালকুমড়ো বলির রীতিও রয়েছে।
তবে এই পুজোর সবচেয়ে চর্চিত রীতি ‘শত্রুবলি’। নবমীতে চালের পিটুলি দিয়ে মানুষের আকৃতি তৈরি করা হয়। কচু পাতায় মুড়ে সেটি প্রতীকী বলি দেওয়া হয়। পরিবারের মতে, এটি ষড়রিপু দূর করার প্রতীক। এই পুজোয় অন্নভোগ দেওয়া হয় না। সাড়ে ১২ কেজি চালের নৈবেদ্য দেওয়া হয়। দশমীর ভোগে থাকে বোরো ধানের চাল, কচুর লতি, শালুক-শাপলা শাক ও আমড়া। সন্ধ্যায় সিঁদুরখেলার পর বাড়ির পুকুরেই হয় প্রতিমা নিরঞ্জন। প্রতিবছর স্থানীয় মানুষের ভিড়ে উৎসবের আমেজ আরও বেড়ে ওঠে।
চিত্র ঋণ – Gearless Travel Diaries-র ফেসবুক পেজ






































Discussion about this post