কখনও কখনও একটি বাড়ি শুধু বাড়ি থাকে না। তার দেওয়ালে জমে থাকে ইতিহাস। উঠোনে থাকে স্মৃতি। আর পুজোর দিনগুলিতে ফিরে আসে পুরনো দিনের গন্ধ। হাওড়ার বাঁধাঘাটের কাছে এমনই এক ঐতিহ্যবাহী বাড়ি হল সালকিয়া হাউস। শ্রীরাম ঢ্যাং রোড ধরে এগোলেই দেখা মেলে পুরনো সাদা প্রাসাদোপম বাড়িটির। গেটের একদিকে লেখা ‘শালিখা হাউস’। অন্যদিকে ‘সালকিয়া হাউস’। এই বাড়ির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বিখ্যাত সুরকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তবে শুধু তাঁর জন্যই নয়, প্রায় আড়াইশো বছরের পুরোনো দুর্গাপুজোর জন্যও এই বাড়ি আজও পরিচিত।

এই পুজোর শুরু ১৭৭৪ সালে। বাড়ির পূর্বপুরুষ জমিদার রাধামোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে পুজো শুরু হয়। পরে রসিক কৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে পরিবারটির সমৃদ্ধি বাড়ে। একসময় সালকিয়া বাজারও ছিল এই পরিবারের মালিকানায়। সময় বদলেছে। পরিবারের আর্থিক অবস্থাতেও এসেছে পরিবর্তন। তাই আগের মতো জাঁকজমক আর নেই। কিন্তু পুজোর নিয়মে আজও কোনও ছেদ পড়েনি। নিষ্ঠা ও পারিবারিক ঐতিহ্য মেনেই প্রতি বছর দেবীর আরাধনা হয়।

বাড়ির ঠাকুরদালানে তৈরি হয় একচালার প্রতিমা। মহালয়ার পরের দিন হয় দেবীর বোধন। বাড়ির নিজস্ব ঠাকুরঘরে চলে চণ্ডীপাঠ। ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় বেলবরণ দিয়ে শুরু হয় পুজো। সপ্তমীর সকালে পরিবারের নিজস্ব ব্যানার্জি ঘাটে হয় কলা বৌ স্নান। অষ্টমীতে হয় কুমারী পুজো। এক সময় নবমীতে মহিষবলি দেওয়ার রীতি ছিল। এখন তার বদলে ফল ও সবজি বলি দেওয়া হয়। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত দেবীর জন্য রান্না হয় বিশেষ ভোগ। থাকে খিচুড়ি, কুমড়োর ছক্কা, পাঁচ রকম ভাজা, ফ্রায়েড রাইস ও মাছের পদ।
দশমীর ভোগেও রয়েছে আলাদা ঐতিহ্য। আগের দিনের ভোগই সেদিন ‘বাসি ভোগ’ হিসেবে নিবেদন করা হয়। থাকে পান্তা ভাত, চালতা দিয়ে মুসুর ডাল, কুমড়োর চচ্চড়ি, কচু শাক, ল্যাটা মাছ পোড়া ও চাটনি। এরপর আসে বিদায়ের পালা। আগে ১৮ জন কুলি কাঁধে করে প্রতিমা নিয়ে গঙ্গায় যেতেন। এখন প্রতিমার আকার ছোট হয়েছে। সিঁদুর খেলা শেষে পরিবারের সদস্যরাই প্রতিমা নিয়ে যান ব্যানার্জি ঘাটে। সেখানেই হয় বিসর্জন। সময় বদলালেও সালকিয়া হাউসের পুজো আজও ধরে রেখেছে তার পুরনো শিকড়।
চিত্র ঋণ – Kinjalbose.in






































Discussion about this post