দশমীতে মায়ের বিসর্জন, আর ঠিক আট দিন পরই ফের মণ্ডপে দেবী! বাংলার অন্য প্রান্তে যখন দুর্গাপুজোর রেশও ফিকে, তখন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার নন্দকিশোরগছে আবারও বেজে ওঠে ঢাক। ১৩৮ বছরের এই অনন্য রীতিতে এবছরও হাজার হাজার মানুষ সামিল হয়েছেন উৎসবে। স্থানীয়দের কাছে এই পুজো পরিচিত ‘অষ্টমী দুর্গাপুজো’ নামে। এই পুজোকে ঘিরে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী জহরা মেলাও।

এবছর এই পুজো পা দিয়েছে ১৩৮ বছরে। প্রাচীন রীতি মেনেই একদিনে সম্পন্ন হয় সমস্ত পুজোর আচার। এখানকার প্রতিমার গঠনও বেশ আলাদা। একচালার প্রতিমায় মা দুর্গার সঙ্গে থাকেন মোট ২৮ জন দেব-দেবী। শিব, নারায়ণ, কামদেব-সহ বিভিন্ন দেবতার মূর্তি রয়েছে। সারা বছর স্থায়ী মন্দিরে প্রতিমা রাখা থাকে। পুজোর আগে আনা হয় নতুন প্রতিমা।
পুজো উপলক্ষ্যে মন্দির চত্বরে বসেছে তিন দিনের জহরা মেলা। দূরদূরান্ত থেকে ভিড় জমিয়েছেন দর্শনার্থীরা। বাংলা, বিহার, নেপাল ও বাংলাদেশ থেকেও বহু মানুষ আসেন এই মেলায়। নাগরদোলা থেকে নানা ধরনের দোকান রয়েছে। রয়েছে লোকসংস্কৃতির আয়োজনও। শিশুদের আনন্দের জন্য রয়েছে একাধিক ব্যবস্থা। মেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘বাগচারা’ ফল। স্থানীয়দের দাবি, এই ফল অন্যত্র সহজে পাওয়া যায় না। মেলাকে ঘিরে জমে উঠেছে স্থানীয় ব্যবসাও।
এই উৎসব শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়। এটি সম্প্রীতিরও এক অনন্য নজির। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে অংশ নেন। পুজো ও মেলা ঘিরে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তার ব্যবস্থা। বসানো হয়েছে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প। পুলিশ আধিকারিকরাও মেলা চত্বর পরিদর্শন করেছেন। সময় বদলেছে। মেলার আয়োজনেও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। তবে ১৩৮ বছর ধরে চলে আসা নন্দকিশোরগছের এই বিশেষ দুর্গাপুজোর আকর্ষণ আজও অমলিন।
চিত্র ঋণ – পেজ ফোর, সঞ্জীব সিংহ






































Discussion about this post