বাংলার এক বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোয় সম্প্রীতির ছবিটা ধরা পড়ে এক অন্যরকম রীতিতে। এখানে দেবীর প্রথম ভোগ রান্না করেন এক মুসলিম পরিবারের সদস্যরা। নেই সন্ধ্যারতি, নেই পুষ্পাঞ্জলি। তবু প্রায় ৬০০ বছরের ঐতিহ্য ধরে আজও পূজিত হন দেবী দুর্গা। মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের এই পুজো ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন।
পরিবারের আদি বাসস্থান সাগরদিঘির মণিগ্রামে। পরে জমিদার শরৎচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় বহুরা গ্রামে বসতি গড়েন। লোকশ্রুতি অনুযায়ী, এক রাতে গভীর জঙ্গলে ডাকাতদের পূজিত একটি দুর্গাপ্রতিমা দেখতে পান তিনি। স্বপ্নাদেশ পেয়ে সেই প্রতিমা বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু দেবী সন্তুষ্ট হচ্ছিলেন না। পরে স্বপ্নে দেবী জানান, গ্রামের এক দরিদ্র মুসলিম বিধবার হাতের ভোগই তাঁর কাম্য।
প্রথমে রাজি হননি সেই বিধবা, লোকায়ের মা। অভাবের সংসারে দু’বেলা খাবার জোটানোই ছিল কঠিন। পরে তিনিও স্বপ্নাদেশ পান। দেবীর নির্দেশ মেনে জঙ্গল থেকে কোদার খুদ সংগ্রহ করে তৈরি করেন নাড়ু। সঙ্গে দেন সিঁদুর, আলতা, লালপাড় সাদা শাড়ি, শাঁখা ও লোহার বালা। সেই ভোগে সন্তুষ্ট হন দেবী। এরপর থেকেই তাঁর নাম হয় ‘কোদাখাকি দুর্গা’।
আজও সেই ঐতিহ্য অটুট। প্রথমে গ্রামের কোনও মুসলিম পরিবারের হাতে তৈরি ভোগ নিবেদন করা হয় দেবীকে। তারপর অন্যরা ভোগ দিতে পারেন। মহালয়ার ১৪ দিন আগে ঘটে পুজো শুরু হয়, চলে চণ্ডীপাঠ। পুজো হয় তন্ত্রমতে। সন্ধিপুজোর সময়ও নির্ধারিত হয় বিশেষ রীতিতে। প্রদীপের শিখা উত্তর থেকে দক্ষিণে ঘুরলেই শুরু হয় পুজো। বাংলাদেশে থাকা পরিবারের আত্মীয়রাও আজও কোদার চাল পাঠান। ছ’শো বছরের এই ঐতিহ্য শেখায়, ভক্তি ও ভালোবাসার কাছে ধর্মের বিভেদ তুচ্ছ।
প্রচ্ছদ চিত্র ঋণ – Banglar Utsav – বাংলার উৎসব-র ফেসবুক পেজ






































Discussion about this post