রেললাইনের দু’পাশে লালমাটি। মাথার উপর বিশাল গাছ। বাতাসে বুনোফুলের গন্ধ। ট্রেন থামতেই যেন শহরের কোলাহল পিছনে পড়ে যায়। এমনই এক শান্ত স্টেশন প্রান্তিক। শান্তিনিকেতনের খুব কাছেই তার অবস্থান। কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ১০০ মাইল। আজকের এই জনপ্রিয় স্টেশনের পথচলা কিন্তু শুরু হয়েছিল একেবারেই অন্যভাবে।

১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে রেল শান্তিনিকেতনের কাছে একটি স্মারক স্টেশন তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। স্টেশন তৈরি হলেও নাম নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। প্রস্তাব এসেছিল ‘রবি-তীর্থ’, ‘খোয়াই’ এবং ‘গীতাঞ্জলি’। শেষ পর্যন্ত সাহিত্যিক ও শান্তিনিকেতনের প্রাক্তনী প্রমথনাথ বিশীর দেওয়া ‘প্রান্তিক’ নামটিই গ্রহণ করা হয়। প্রথমদিকে এখানে মূলত মালগাড়ি চলত। ট্রেনের ক্রসিংও হত।

১৯৭০ সালের আগে যাত্রীদের জন্য এখানে টিকিট কাউন্টার ছিল না। স্থানীয়দের অনুরোধে সেই বছর টিকিট বিক্রি শুরু হয়। বিশ্বভারতী ফাস্ট প্যাসেঞ্জার এবং বারাউনি লোকালের স্টপেজও দেওয়া হয়। তখন অবশ্য স্টেশনে বিদ্যুৎ ছিল না। সন্ধ্যার পর চারপাশ অন্ধকারে ডুবে যেত। দীর্ঘ দাবির পরে ১৯৮৪ সালের ২৫শে বৈশাখ প্রান্তিকে বিদ্যুৎ আসে।
২০০১ সালের পর স্টেশনের চেহারা বদলাতে শুরু করে। তৈরি হয় অপেক্ষাকক্ষ। উন্নত হয় পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা। শান্তিনিকেতন থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় এখন পর্যটকদের কাছেও প্রান্তিক বেশ জনপ্রিয়। একসময়কার ছোট ক্রসিং স্টেশন আজ হয়ে উঠেছে ভ্রমণপ্রেমীদের পছন্দের জায়গা। লালমাটির পথ আর সবুজের মাঝে প্রান্তিক যেন সত্যিই এক জীবন্ত ছবি।






































Discussion about this post