ভারতকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র বলা হয়। নিয়মিত নির্বাচন হয়। রাজনৈতিক বিতর্কও চলে। কিন্তু গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ যে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, সেই জায়গাতেই এখন প্রশ্ন উঠছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের ২০২৬ সালের বিশ্ব প্রেস ফ্রিডম সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারত ১৫৭ নম্বরে। গত বছর ছিল ১৫১-এ। এক বছরে আরও ছ’ধাপ পতন। ভারতের অবস্থানকে রাখা হয়েছে ‘ভেরি সিরিয়াস’ শ্রেণিতে।
ভারতে সংবাদমাধ্যমের সংখ্যা কম নয়। ভাষার বৈচিত্র্যও বিশাল। কিন্তু সংখ্যাই কি স্বাধীনতার প্রমাণ? রিপোর্ট বলছে, রাজনৈতিক ও আর্থিক চাপ বাড়ছে। বড় কর্পোরেট গোষ্ঠীর হাতে সংবাদমাধ্যমের মালিকানা কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগের। সরকারি বিজ্ঞাপন ও কর্পোরেট অর্থের উপর নির্ভরতা সম্পাদকীয় স্বাধীনতাকে প্রভাবিত করতে পারে। সরকারের সমালোচনা করলেই আইনি ঝুঁকি বা প্রশাসনিক চাপের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সরাসরি নিষেধাজ্ঞার বদলে তৈরি হচ্ছে আত্মনিয়ন্ত্রণ।
আরও একটি বিষয় রিপোর্টে বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তা হল মিডিয়ায় ইসলামবিদ্বেষী বয়ান। বিশেষ করে কিছু হিন্দি টিভি চ্যানেলের প্রাইম টাইমে ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ রয়েছে। মুসলিমদের বারবার নিরাপত্তা, জনসংখ্যা, সন্ত্রাস বা সামাজিক সমস্যার সঙ্গে জুড়ে দেখানোর প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার বদলে উত্তেজনা বাড়ানো বিতর্ক জায়গা করে নিচ্ছে। এর ফলে সংবাদ শুধু খবর থাকছে না। কখনও তা মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরির হাতিয়ার হয়ে উঠছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখানেই। সংবাদমাধ্যম যদি ভয় পায়, তাহলে সরকারকে প্রশ্ন করবে কে? ভুল তথ্য যাচাই করবে কে? সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরবে কে? সাংবাদিকদের উপর মামলা, অনলাইন হুমকি, ট্রোলিং এবং সামাজিক চাপ বাড়লে স্বাধীন কণ্ঠ দুর্বল হয়। গণতন্ত্র তখন শুধু ভোটের মধ্যে আটকে যায়। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্রের ভিতও দুর্বল হয়ে পড়ে। আরএসএফ-র রিপোর্ট তাই শুধু একটি র্যাঙ্কিং নয়। এটি একটি সতর্কবার্তা—ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে।






































Discussion about this post