আপনার টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট আছে? তাহলে আচমকাই আসতে পারে একটি মেসেজ। প্রশ্ন থাকবে, কাজ করে টাকা উপার্জন করতে চান কি না। আপনি ‘হ্যাঁ’ বললেই শুরু হবে আসল খেলা। এরপর পাঠানো হবে একটি ফর্ম। সেখানে থাকবে কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন। নাম, বয়স বা কাজের অভিজ্ঞতার মতো তথ্য চাওয়া হতে পারে। সবশেষে বলা হবে, রেজিস্ট্রেশনের জন্য দিতে হবে মাত্র ১৫০ টাকা। টাকার অঙ্কটা কম। তাই সন্দেহও কম হয়। অনেকেই ভাবেন, কাজ পেলে টাকা উঠে যাবে। এই বিশ্বাসটাই স্ক্যামারদের মূল অস্ত্র।

১৫০ টাকা দেওয়ার পর শুরু হবে পরের ধাপ। আপনাকে কিছু ছোট কাজ দেওয়া হবে। যেমন, গুগল বিজনেসে গিয়ে নির্দিষ্ট দোকান বা প্রতিষ্ঠানের রিভিউ দেওয়া। কখনও নির্দিষ্ট রেটিং দিতে বলা হতে পারে। কখনও স্ক্রিনশট পাঠাতে বলা হয়। কাজগুলো খুব সহজ মনে হবে। তাই বিশ্বাস আরও বাড়বে। কোথাও কোথাও প্রথম দিকে সামান্য টাকা দেওয়ার ঘটনাও থাকতে পারে। এতে মনে হয়, সত্যিই কাজ করে আয় হচ্ছে। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য তখনও সামনে আসে না।

এরপর ধীরে ধীরে বদলে যায় খেলা। আরও বেশি টাকা আয়ের লোভ দেখানো হয়। বলা হয়, বেশি টাকা পেতে বড় কাজ করতে হবে। তার জন্য আগে টাকা জমা দিতে হবে। কখনও ‘প্রিমিয়াম টাস্ক’, কখনও ‘সিকিউরিটি ডিপোজিট’ বা অন্য কোনও অজুহাত দেওয়া হয়। একবার টাকা দিলে আবার নতুন চার্জ আসে। এভাবেই একের পর এক টাকা নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত টাকা ফেরত পাওয়া যায় না এবং যেই অ্যাকাউন্ট থেকে আপনাকে মেসেজ পাঠানো হচ্ছিল টেলিগ্রামে সেই নামটিও বদলে যায়। শুধু তাই নয় তার প্রোফাইল ফটোটিও বদলে যায়। উপরে দেওয়া ছবিতে আপনারা নিশ্চয়ই দেখতে পেলেন রাধিকা আইয়ার কিভাবে প্রীত অরোরা হয়ে গেল। তাই টেলিগ্রামে এমন মেসেজ এলেই সতর্ক থাকুন। কাজের নামে আগে টাকা চাইলে থামুন। যাচাই না করে কোনও টাকা পাঠাবেন না।






































Discussion about this post