সাঁকরাইলের রাজগঞ্জে হুগলি নদীর ধারে দাঁড়িয়ে আছে এক পুরনো জমিদারবাড়ি। সেই বাড়ির দুর্গাপুজোর ইতিহাস জড়িয়ে আছে পরিবার, ঐতিহ্য আর এক বেদনাদায়ক স্মৃতির সঙ্গে। প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই পুজো আজও পালিত হয় নিষ্ঠার সঙ্গে। এই পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শ্রী চূড়ামণি পাল। তিনি আন্দুল রাজবাড়ির দেওয়ান ছিলেন। তাঁর সততা ও অধ্যবসায়ে মুগ্ধ হয়ে রাজবাড়ি থেকে তাঁকে রাজগঞ্জে জমি দেওয়া হয়। সেখানেই তৈরি হয় পাল পরিবারের জমিদারবাড়ি।
১৮৫৭ সালের দিকে ঝড়ে বাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে শ্রী রামধন পাল নতুন করে বাড়ি ও ঠাকুরদালান তৈরি করেন। বড় ছেলে ললিত পালের নামে বাড়ির নাম রাখেন ‘ললিত লজ’। পরে নফরচন্দ্র পালের সময়ে পরিবারের সমৃদ্ধি বাড়ে। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে চাকরি শুরু করেছিলেন তিনি। পরে ইটভাটার ব্যবসায় নামেন। সেই ব্যবসায় বিপুল সাফল্য পান। শোনা যায়, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গেও তাঁর ব্যবসায়িক যোগাযোগ ছিল। তাঁর আমলেই বাড়ির সংস্কার হয়। দুর্গাপুজোও পায় নতুন জৌলুস।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবেছিলেন নফরচন্দ্র পাল। পুজোর খরচ চালাতে তিনি বেশ কিছু সম্পত্তি কিনে দেবোত্তর করে দেন। সেই সম্পত্তির আয়েই আজও দুর্গা, কালী, লক্ষ্মী এবং গৃহদেবতা শ্রীধরজির পুজো চলে। জন্মাষ্টমীতে কাঠামো পুজো দিয়ে শুরু হয় দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। মহালয়া থেকে শুরু হয় চণ্ডীপাঠ। বৈষ্ণব মতে পুজো হওয়ায় পশুবলি নেই। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত বাড়িতে নিরামিষ রান্না হয়। সন্ধিপুজোয় জ্বলে ১০৮টি প্রদীপ।
তবে পালবাড়ির পুজোর সবচেয়ে আবেগঘন রীতি অষ্টমীর সিঁদুরখেলা। এর পিছনে রয়েছে গভীর শোকের স্মৃতি। বাড়ির নাম যার নামে, সেই ললিত পাল মাত্র ১৮ বছর বয়সে অষ্টমীর দিন হঠাৎ মারা যান। সেই থেকেই অষ্টমীর দিন সিঁদুরখেলার রীতি শুরু হয়। ওই দিনই কখনও কখনও প্রতিমার বিসর্জনও দেওয়া হত। প্রজন্ম বদলেছে। সময় বদলেছে। কিন্তু সেই বেদনামিশ্রিত ঐতিহ্য আজও ধরে রেখেছে পাল পরিবার।
চিত্র ঋণ – শান্তনু সরকার






































Discussion about this post