বাঙালি ও মিষ্টি একে অপরের পরিপূরক। বাঙালি রীতিতে শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর প্রথমেই নবজাতকের মুখে মধু দেওয়ার রীতি প্রচলিত আছে প্রাচীন সময় থেকেই চলে আসছে। এই জন্যই বলা হয় মিষ্টি বাঙালির জন্মসূত্রে প্রাপ্ত রসনা তৃপ্তিদায়ক। বাংলার প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে রয়েছে রকমারি স্বাদ ও গঠনের বহু মিষ্টি। বাংলার প্রসিদ্ধ মিষ্টিগুলির মধ্যে অন্যতম বর্ধমানের দরবেশ।

দরবেশ শুধু বর্ধমানের নয়, এটি সারা বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় মিষ্টান্ন। দরবেশ শব্দের অর্থ মুসলমান সন্ন্যাসী। কথিত আছে প্রাচীন সময়ে মুসলিম দরবেশরা যে আলখাল্লা পরতেন, তা নানা রকম রঙের হত। দরবেশ মূলতঃ বোঁদে থেকে প্রস্তুত লাড্ডু জাতীয় মিষ্টান্ন। যেহেতু এই লাড্ডু গোষ্ঠীর দরবেশ আগে লাল, হলুদ ও সাদা এই তিন রঙের বোঁদে দিয়ে প্রস্তুত হত তাই এর নাম রাখা হয় দরবেশ। বর্তমানে দরবেশ সধারণত লাল ও হলুদ রঙের বোঁদে দিয়েই তৈরী করা হয়।

লাড্ডু তৈরির উপাদান গুলি হল বেসন, সোডা, প্রয়োজন মতো ফুড কালার (লাল, সবুজ, হলুদ), চিনি, তেল, ঘি, জল, এলাচ গুঁড়ো। এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী কাজু, আলমন্ড, পেস্তা কুঁচি ও মগজ দানা। বেসন,সোডা মিশিয়ে নিয়ে প্রয়োজন মতো জল দিয়ে ব্যাটার তৈরি করে নিতে হয়। তারপর ঝাঁজরি হাতার সাহায্যে বোঁদেগুলো ভেজে তুলে রাখা হয়। এরপর চিনি ও জল দিয়ে রস তৈরী করে তাতে বদে গুলো দেওয়া হয়। তারপর ২ মিনিট নেড়ে নিয়ে এলাচ গুড়ো, ঘি, বাদাম কুঁচি, মগজ দানা কুচি, কেওড়া জল দিয়ে ৩০ মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখতে হয়। ৩০ মিনিট পর খুলে গোল গোল লাড্ডুর আকার দেওয়া হয়।
শারীরিক সমস্যার জন্য বা ডায়েট কন্ট্রোলের জন্য অনেকেই এখন মিষ্টিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে কিঞ্চিত হলেও রসনা তৃপ্তিতে মিষ্টি না চেকে থাকতে পারেন ই না। বাঙালির খাদ্যতালিকায় মিস্টির বিকল্প কিছু নেই। তাই তো বিখ্যাত কৌতুকাভিনেতা নবদ্বীপ হালদারের কৌতুক গীতি ‘শরীরটা আজ বেজায় খারাপ’-এ তিনি গেয়েছেন- “বাগবাজারের রসগোল্লা, ভীম নাগের সন্দেশ বর্ধমানের সীতাভোগ মিহিদানা দরবেশ।”
চিত্র ঋণ – Cookpad, Kitchen of Debjani






































Discussion about this post