বাংলার আদিবাসী সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল হাঁড়িয়া। এটি শুধু একটি পানীয় নয়, বরং জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এক ঐতিহ্য। বহুদিন ধরেই এটি নিয়ে নানা মত রয়েছে। কেউ এটিকে নেশাজাতীয় বলে দূরে সরিয়ে রাখেন। আবার কেউ মনে করেন এর মধ্যে লুকিয়ে আছে বিশেষ পুষ্টিগুণ। সাম্প্রতিক গবেষণা এই বিতর্কে নতুন দিশা দেখাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় আদিবাসীদের মধ্যে হাঁড়িয়ার প্রচলন রয়েছে। সাধারণত ভাতের সঙ্গে বাকর ও অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে তা পচিয়ে তৈরি করা হয়। কয়েকদিন পর সেই গাঁজানো ভাত ছেঁকে তার নির্যাস বের করা হয়। পরে তার সঙ্গে জল মিশিয়ে পান করা হয়। এটি দেখতে অনেকটা ঘোলের মতো। প্রচলিত বিশ্বাস, এটি শরীর ঠান্ডা রাখে এবং গরমেও কাজ করার শক্তি জোগায়।

পুরুলিয়ার সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই পানীয় নিয়ে বিশদ গবেষণা করেছেন। তাঁদের মতে, হাঁড়িয়া আসলে পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট, গ্লুকোজ ও প্রোটিন থাকে। তবে জল ছাড়া হাঁড়িয়াতে অ্যালকোহলের মাত্রা প্রায় ১১.৩ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তাই এটি সরাসরি পান করলে নেশার প্রভাব দেখা দেয়। কিন্তু জল মিশিয়ে খেলে অ্যালকোহলের মাত্রা কমে যায় এবং পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।

গবেষকদের মতে, সঠিকভাবে ব্যবহার করলে হাঁড়িয়া অপুষ্টি দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, আদিবাসী সমাজের একটি বড় অংশ অপুষ্টির শিকার। তাই হাঁড়িয়াকে আরও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরি করা এবং এতে আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন যুক্ত করা গেলে তা উপকারী হতে পারে। ভবিষ্যতে এটি প্যাকেটজাত করে বাজারেও আনা সম্ভব। তবে এই গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পর্যাপ্ত অর্থের প্রয়োজন, তাই সরকারের সহায়তা অপরিহার্য।






































Discussion about this post