ভারতের শিল্পাঞ্চলগুলিতে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের জীবনে আবারও এক গভীর অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে। সাম্প্রতিক জ্বালানি সঙ্কটের ফলে রান্নার গ্যাসের অভাব তাদের দৈনন্দিন জীবনকে চরম দুর্বিষহ করে তুলেছে। যেখানে শহুরে মধ্যবিত্ত ক্রমশ প্রস্তুত খাবারের দিকে ঝুঁকছে, সেখানে এই শ্রমিকদের অনেকেই দিনের শেষে একবেলা খাবার জোটানো নিয়েই সংগ্রাম করছেন। গ্যাসের অভাবে ঘরে রান্না বন্ধ হয়ে গেছে, আর বাইরে ধাবাগুলিতে খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের পক্ষে নিয়মিত খাওয়াও অসম্ভব হয়ে উঠছে। ফলত, অনেকেই বাধ্য হয়ে গ্রামে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন।
এই পরিস্থিতি নতুন নয়। কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় যে চিত্র দেশ দেখেছিল, তারই পুনরাবৃত্তি যেন ঘটছে। হঠাৎ ঘোষিত লকডাউনে লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক কাজ হারিয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। অনেকে দিনের পর দিন না খেয়ে পথ চলেছেন, প্রাণ হারিয়েছেন, বাড়ি পৌঁছাতে পারেননি। এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে ঘুমন্ত শ্রমিকদের উপর দিয়ে ট্রেন চলে গেছে , তাঁরা ঘুমন্ত অবস্থায় মারা গেছেন। বর্তমান সংকটে তাঁদের জন্য আগাম কোনও প্রস্তুতি বা সহায়তার ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।
বর্তমান গ্যাস সঙ্কট পরিযায়ী শ্রমিকদের খাদ্য সঙ্কটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অনেক শ্রমিকই এখন সস্তা খাবার বা দ্রুত রান্না হয় এমন খাবারের উপর নির্ভর করছেন, যা পুষ্টির দিক থেকে অপর্যাপ্ত। কেউ কেউ অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনে কোনোমতে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ কাজ থাকা সত্ত্বেও শুধু খাবারের অভাবে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। এই অবস্থায় তাদের আয় কমছে, সঞ্চয় শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, এই বিপর্যয়ের মধ্যেও পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কার্যকর নীতি বা সহায়তার অভাব। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এই শ্রমিকদের কোনও শক্তিশালী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর নেই বলেই তাদের সমস্যা বারবার উপেক্ষিত হয়। কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বা জরুরি সহায়তা; যেমন রেশনিং বা কমিউনিটি কিচেন নিয়ে কোনও স্পষ্ট উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে আবারও সেই প্রশ্ন সামনে আসছে, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এই মানুষগুলো কি কেবল সংকটের সময়েই বিস্মৃত হয়ে যাবেন?





































Discussion about this post