ওড়িশার গভীর অরণ্য, পাহাড়, নদী ও বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ির এক অপূর্ব মেলবন্ধনের নাম সাতকোশিয়া। মহানদীর প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ গিরিখাত অঞ্চলকে ঘিরেই এই সাতকোশিয়া গর্জ, যার ‘সাত কোশ’ বিস্তার থেকেই নামকরণ। যাঁরা শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির নিস্তব্ধতা, কুয়াশামাখা ভোর, নদীর গুঞ্জন আর গভীর জঙ্গলের রোমাঞ্চ একসঙ্গে উপভোগ করতে চান, তাঁদের জন্য শীতকালে ২ রাত ৩ দিন বা ৩ রাত ৪ দিনের সফরের আদর্শ গন্তব্য সাতকোশিয়া।
কলকাতা থেকে সাতকোশিয়া পৌঁছনো সহজ। শালিমার বা সাঁতরাগাছি থেকে আঙ্গুলগামী Sambalpur SF Express ও Mahima Gosain Express ট্রেনে সকালে আঙ্গুল পৌঁছানো যায়। এছাড়াও বাবুঘাট থেকে প্রতিদিন AC Volvo বাস রয়েছে। আঙ্গুল বা ভুবনেশ্বর, দুই জায়গা থেকেই গাড়ি নিয়ে সাতকোশিয়া যাওয়া সম্ভব। থাকার জন্য মহানদীর দুই তীর জুড়ে ওড়িশা সরকারের পরিচালিত একাধিক নেচার ক্যাম্প রয়েছে। টিকরপাড়া, ছোটকেই, তারাভা, পুরুনাকোট ও বাঘমুন্ডা। নদীর অন্য পারে নির্জন পরিবেশে রয়েছে বাদমূল স্যান্ড রিসোর্ট। অনলাইনে ecotourodisha.com ও ecoodisha.com–এ বুকিং করা যায়, এছাড়াও কিছু ভালো প্রাইভেট রিসোর্ট ও হোটেল রয়েছে।
ভ্রমণ পরিকল্পনায় প্রথম দিন জঙ্গল ঘেরা পথে ক্যাম্পে পৌঁছে আশপাশের বনাঞ্চল, সানসেট পয়েন্ট ও ইভনিং সাফারি উপভোগ করা যায়। দ্বিতীয় দিন তারাভা থেকে টিকরপাড়ার পথে নন্দিনী ঝর্ণা দেখে মহানদীর তীরে সাতকোশিয়ার গর্জন অনুভব করা, কুমির প্রকল্প সংলগ্ন বোটিং ও পুরনাকোটের ঐতিহাসিক বনবাংলো দর্শন করা যায়। তৃতীয় দিনে ভোরের কুয়াশা ঢাকা নদীতে সূর্যোদয় দেখে বাদমূল স্যান্ড রিসোর্টে যাত্রা, পথে দেবধর জলপ্রপাত। সেখানে বোটিং, ক্যানোপি ওয়াক, বিচ ভলিবল কিংবা শুধু নদীর বালিয়াড়িতে বসে সময় কাটানোই আলাদা অভিজ্ঞতা। চতুর্থ দিনে সকালের প্রকৃতি উপভোগ করে আঙ্গুল বা ভুবনেশ্বরের পথে ফেরা।
সাতকোশিয়া সফরের সেরা সময় নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, এছাড়া বর্ষার পর সেপ্টেম্বর–অক্টোবরও সুন্দর। তবে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সবসময় নাও থাকতে পারে, তাই পাওয়ার ব্যাংক ও অফলাইন ম্যাপ সঙ্গে রাখা জরুরি। স্বল্প সময়ের সফরে টিকরপাড়া ও বাদমূল, এই দুই জায়গায় রাত কাটানো সবচেয়ে সুবিধাজনক। প্রকৃতিপ্রেমী, অ্যাডভেঞ্চার ও নির্জনতা খোঁজা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য সাতকোশিয়া নিঃসন্দেহে এক অনন্য ঠিকানা।






































Discussion about this post