কয়লা খাদানের নাম করে দেউচা-পাঁচামীর আদিবাসী উচ্ছেদ চলবে না, এই মর্মে আদিবাসীদের আন্দোলন চলেছে বিগত কয়েক বছরে। একইসঙ্গে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের উপরে জঙ্গল সাফ করে একের বেশি স্টোরেজ প্রজেক্ট নির্মাণ হচ্ছে। সেই নির্মাণের জেরেই নষ্ট হচ্ছে আদিবাসীদের জঙ্গলের অধিকার। বিঘ্ন হচ্ছে পরিবেশ। ফলে নিজেদের অধিকার এবং পরিবেশের সচেতনতার খাতিরে আন্দোলনে রত অযোধ্যা পাহাড়ের আদিবাসীরাও। চলতি বছরের ৮ অক্টোবর এই দুই প্রাণ-প্রকৃতি-সংস্কৃতির আন্দোলনে যুক্ত আদিবাসীরা সম্মিলিতভাবে একটি দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে মানুষের কাছে, সংবাদমাধ্যমগুলির কাছে তাদের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চাইলেন।

প্রচন্ড গরমের দাবদাহ পেরিয়ে বাংলায় এখন পুজোর মরশুম। কিন্তু, বাংলারই আর এক অংশে চলছে মৃত্যুর মিছিল। দক্ষিণবঙ্গ যখন গরমে হাঁসফাঁস করছিল, তখনই উত্তরবঙ্গে শুরু হয়েছিল বন্যা। পাশের রাজ্য সিকিমে ভেঙে পড়েছিল জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ড্যাম। অসংখ্য মানুষ নিখোঁজ এবং ক্ষতিগ্রস্ত। বিগত বছরেও বাংলার বিভিন্ন রাজ্যে বন্যা এবং খরার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ফসল উৎপাদকরা। জলবায়ুর আমুল পরিবর্তন, ঝড়ঝঞ্ঝার শিকার হয়েছেন সেই সমাজের খেটে-খাওয়া মানুষেরাই। এর কারণ হিসেবে, পুঁজিবাদের স্বার্থে জঙ্গল, জলাভূমি, অবৈধ খননকে প্রশ্ন করে চলেছেন আদিবাসীরা। তার সঙ্গেই রয়েছে, তাঁদের নিজেদের বাসভূমি থেকে তাঁদেরকেই উচ্ছেদের প্রসঙ্গ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, “সকল আদিবাসী মানুষ এবং সংগঠনের কাছে আমাদের বিনম্র আবেদন আমাদের ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত কর্মসূচী যাই থাকুক না কেন, আমাদের প্রত্যেকের অন্যতম কর্মসূচী হোক অযোধ্যা ও দেউচা-পাঁচামীর প্রাণ-প্রকৃতি-সংবেদী আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানো। আমরা সকল সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গের কাছে অযোধ্যায় চারটে ড্যাম প্রোজেক্ট এবং দেউচা-পাঁচামীর কয়লাখনি বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানাই। অযোধ্যা ও দেউচা-পাঁচামীর হাজার হাজার মানুষের কাছে আপনার অবস্থান স্পষ্ট করে রাখুন, আপনি কি প্রাণ-প্রকৃতি-সংস্কৃতি রক্ষার পক্ষে? নাকি পুঁজিপতিদের স্বার্থে প্রাণ-প্রকৃতি-সংস্কৃতি ধ্বংসের পক্ষে?”
Discussion about this post