মা বাবার স্নেহ উপলব্ধি করার সুযোগটাই হয়তো সন্তানের কাছে একটা সৌভাগ্য। কিন্তু সন্তান বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের কেরিয়ার কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের সুবাদে এক পা করে দূরে সরে চলে। আর এটা আজকের দিনে আমাদের চোখে অতি পরিচিত একটা ফ্রেম। এদিকে মা-বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা কিংবা আবেগ নিয়ে হামেশাই চলে বড় বড় সাহিত্য। কখনও আবার ভাইরাল কোনো ভিডিও আবেগে ভাসিয়ে দেয় আমাদের। তবে মা-বাবাকে নিয়ে আমরা যতটা দেখনদারি করে থাকি ঠিক ততটাই কি ভালোবাসি গভীরে? ঠিক ততটাই কি যত্ন নিয়ে উঠি তাদের জীবনের শেষ পর্যায়? এসবের উত্তর দিতেই হয়তো একরকম দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে খাড়া করলেন বর্ধমানের এক দম্পতি।

বর্ধমানের পুলিশ লাইন এলাকার বাসিন্দা হলেন কামিনী বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী। বর্তমানে কামিনীবাবু অবশ্য একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক কর্মী। আর এই অবসর জীবনেই তিনি যে ব্রতে দীক্ষিত হলেন তা সত্যিই অতুলনীয়। স্বর্গীয় মা-বাবার মূর্তি বানিয়ে তা কাঁচের চৌহদ্দির মধ্যে রেখে স্থাপন করলেন এক মন্দির। ভগবানের আসনেই প্রতিষ্ঠিত করলেন তাঁদের। আর শুধু তাই নয় মা বাবার স্মৃতিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে খুলে দিলেন দাতব্য চিকিৎসালয়ের দরজা। যেখানে আশেপাশের গরীব খেটে খাওয়া মানুষ বিনামূল্যেই পাবে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। কামিনীবাবু মনে করেন মা-বাবাকে শ্রদ্ধা বা ভালোবাসা জানানোর কোনো বয়স বা সময় হয় না। জীবিত কি মৃত মা-বাবা সর্বদাই সন্তানের কাছে ভগবানের এক রূপ।
আধুনিকতার যুগে মানুষের স্বার্থপরতা এক চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গিয়েছে। মা বাবার জন্য এক টুকরো সময়েরও অভাব যেখানে প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে, সেখানে মা-বাবার মন্দির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে দুঃস্থদের পাশে দাঁড়ানো। এমন এক সিদ্ধান্ত সত্যিই এক বড় মনের পরিচায়ক।
Discussion about this post