মার্চের শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তাগুলো যেন এক অদৃশ্য স্রোতে ভেসে গেল। হাতে প্ল্যাকার্ড, কণ্ঠে একই স্লোগান: “নো কিংস।” নিউইয়র্ক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস, মিনেসোটা থেকে ছোট ছোট মফস্বল শহর, একই আহ্বানে লাখো মানুষ নেমে এলেন রাস্তায়। শুধু জনসমাগম নয়, এই বিক্ষোভে ছিল এক ধরনের অস্বস্তিকর জরুরি বার্তা। ক্ষমতার সীমা কোথায়, আর সেই সীমা লঙ্ঘিত হলে জনগণ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। বড় শহরের পরিচিত প্রতিবাদ সংস্কৃতি পেরিয়ে এই আন্দোলন যখন ছোট শহরেও ছড়িয়ে পড়ছে, তখন সেটি আর কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘরানার মধ্যে আটকে থাকছে না; হয়ে উঠছে জাতীয় মনোভাবের প্রতিফলন।
সাম্প্রতিক ‘নো কিংস’ আন্দোলন মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতির বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তিনি রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রতীকী সব দিক থেকেই ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এক ধরনের স্বৈরশাসনের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন দমন অভিযান “অপারেশন মেট্রো সার্জ” এবং মিনেসোটায় অভিযানের সময় দুই নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়। আয়োজকদের লক্ষ্য শুধু বড় শহরের উদারপন্থী ভোটারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা নয়। মূলত রক্ষণশীল এলাকাতেও সমর্থন গড়ে তুলে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলা। তাঁদের মতে, এই আন্দোলন গণতান্ত্রিক ধারণার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই।
তবে ‘নো কিংস’ আন্দোলন নতুন ঘটনা নয়। ২০২৫ সালে প্রথম এই আন্দোলনের সূচনা করে প্রগ্রেসিভ সংগঠনগুলো, বিশেষ করে ‘ইনডিভিজিবল’। সে সময়ও ট্রাম্পের ক্ষমতার ব্যবহার, বিচারব্যবস্থার ওপর প্রভাব এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। জুন ও অক্টোবর দুই দফা জাতীয় বিক্ষোভে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্কসহ বড় শহরগুলো ছিল কেন্দ্রবিন্দু, আর সেই সময় আন্দোলন মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধেই ছিল। তবে তখনকার আন্দোলন শহরকেন্দ্রিক ছিল বেশি, যা এবার ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাম ও ছোট শহর পর্যন্ত।
আন্দোলন যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই এর দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্নও বাড়ছে। নতুন নতুন ইস্যু যুক্ত হওয়ায় স্লোগানের মূল লক্ষ্য কিছুটা বিস্তৃত; কখনো কখনো অস্পষ্টও। সামনে নির্বাচন, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা- সব মিলিয়ে ‘নো কিংস’ (No Kings) আন্দোলন এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এটি কি দীর্ঘমেয়াদী কোনো সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেবে, নাকি বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদের ঢেউ হিসেবেই থেমে যাবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত।





































Discussion about this post