হঠাৎই যেন দৃশ্যপট বদলে গেল। যেখানে ভালোবাসা ছিল অপরাধ, আর ‘সম্মান’ ছিল শাস্তির হাতিয়ার, সেখানে এখন আইনের ভাষায় উচ্চারিত হচ্ছে স্বাধীনতার ঘোষণা। কর্ণাটক বিধানসভা পাস করল এক যুগান্তকারী আইন— Karnataka Freedom of Choice in Marriage and Prevention and Prohibition of Crimes in the Name of Honour and Tradition Bill, 2026, যা জনপ্রিয়ভাবে “এভা নাম্মাভা বিল” নামে পরিচিত। এই আইনের লক্ষ্য একটাই; প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দকে রক্ষা করা এবং ‘অনার’ বা প্রথার নামে সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ঢাল তৈরি করা।
ভারতীয় সমাজে বিয়ে কখনোই শুধু দু’জন মানুষের ভালোবাসার মিলন নয়; বরং বহু ক্ষেত্রে তা ধর্ম, জাত, বর্ণ ও পারিবারিক সম্মানের জটিল কাঠামোর মধ্যে বাঁধা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা সামাজিক রীতি-নীতির চাপে ব্যক্তিগত ইচ্ছা প্রায়ই চাপা পড়ে যায়। ভালোবাসার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে ‘কে কোন সম্প্রদায়ের’, ‘কোন পরিবারের’, বা ‘কোন প্রথার’। এই আইন সেই পুরোনো কাঠামোর বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। এই আইন জানিয়ে দিয়েছে, বিয়ে একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, কোনো সামাজিক আদালতের অনুমোদনের বিষয় নয়।
আইনটি বলছে, দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যদি বিয়ে করতে চান, তবে তাদের বাবা-মা, পরিবার বা সমাজের নেতাদের সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকারকে এখানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, কোনো দম্পতি যদি বিয়ের কারণে হুমকি পান, তাহলে অভিযোগ পাওয়ার ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশকে তাদের সুরক্ষা দিতে হবে; যা প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে।
এছাড়াও, প্রতিটি জেলা সদর দফতরে “সেফটি রেসিডেন্স” বা নিরাপদ আবাসন তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ঝুঁকিতে থাকা দম্পতিরা গোপনে ও নিরাপদে থাকতে পারবেন। ‘অনার ক্রাইম’-এর সংজ্ঞাও বিস্তৃত করা হয়েছে। সামাজিক বয়কট, সমাজচ্যুতি বা অপমানের উদ্দেশ্যে প্রতীকী আচার-অনুষ্ঠানকেও এখন অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও অনার ক্রাইম প্রতিরোধে আইনি কাঠামো নিয়ে আলোচনা চললেও, কর্ণাটকের এই পদক্ষেপ একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে; যেখানে ভালোবাসা আর অপরাধ নয়, বরং অধিকার।





































Discussion about this post