দেবাঞ্জলি সেন, মোটিভেশনাল স্পিকার ও কবি, ভারত
আমার কাছে বইমেলা সেই ছোট্ট বেলায় আরব্য রজনীর ওই জাদুকরী অনুভূতি কে আবার নতুন আবার নতুন করে জাগিয়ে তোলা। কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা তাই বই পোকা মানুষের কাছে একটা উৎসব। বই পড়ার নেশা তাবড় তাবড় নেশাকে হারিয়ে দিয়ে আজ ও সেই এক জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে।
প্রতি বছর বইমেলা মুক্তমনা লেখকদের সাথে এক একটি স্টলের সামনে ভরে থাকে নতজানু কিছু বই পাগল মানুষ।
আমি নিজে বই মেলায় অংশ নিয়েছি আর দেখেছি মানুষের উৎসুকতা কবিতা শোনার। খুব কাছে থেকে দেখেছি কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব কে যাদের কাছে অক্ষর বন্দী করাটা আর মানুষের মনের লুকিয়ে থাকা না বলা কথাকে অনায়াসে তুলে ধরা শিল্প মন যা শুধুই উৎকর্ষতায় পরিপূর্ণ।
আমার কাছে তাই বইমেলা একটা দক্ষতা একটা লক্ষ্য পূরণের উৎসব যেখানে মিশে আছে হাজারো মানুষের ভিড়ে তাদেরই কিছু না বলা কথা বইয়ের কালো অক্ষরে প্রকাশের এক আলোকিত অধ্যায়।
মীর মোনাম, সঙ্গীত শিল্পী, বাংলাদেশ
কলকাতা বইমেলা সম্পর্কে যতটুকু জেনেছি, তা থেকে এ কথা স্পষ্ট যে এটি বাঙালির মনন ও আবেগের এক পবিত্র তীর্থভূমি। কাঁটাতারের বেড়া আমাদের ভূগোল ভাগ করেছে সত্য, কিন্তু বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিকড় দুই বাংলাকে এক আত্মায় বেঁধে রেখেছে। কবিগুরুর ভাষায়, “যুক্ত করো হে সবার সঙ্গে, মুক্ত করো হে বন্ধ।” সাহিত্যের এই মিলনমেলা দুই বাংলার মানুষের হৃদ্যতা আরও গভীর করুক। জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক সবার প্রাণ। ওপার বাংলার সকল পাঠক ও সাহিত্যপ্রেমীদের জানাই বাংলাদেশ থেকে আমার অন্তরের গভীর শ্রদ্ধা ও মৈত্রীময় শুভেচ্ছা। আসন্ন বইমেলা ২০২৬ বরাবরের মতোই সুন্দর আর সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজিত হোক, এই কামনা।
শেখ মাবুদ আলী, পরিবেশ আন্দোলন কর্মী
২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘সেভ ট্রি সেভ ওয়ার্ল্ড’ পরিবেশ রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। বর্ধমান থেকে শুরু হওয়া সেই সবুজ আন্দোলন আজ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। নিজেকে একজন প্রকৃত সবুজ সৈনিক হিসেবেই নিজের পরিচয় দিতে চাই। কলকাতা বইমেলায় আগত সকল বইপ্রেমীর প্রতি আমাদের আবেদন—মেলা প্রাঙ্গণকে প্লাস্টিক ও থার্মোকল মুক্ত রাখুন, দূষণ থেকে দূরে থাকুন, পরিবেশ বাঁচান। অনেক শুভেচ্ছা রইল।
জয়শ্রী গোস্বামী, শিশু ছড়াকার ও বাচিক শিল্পী
বই পড়ে পাই শিক্ষা। বইমেলা বই উৎসব। কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় এত প্রকাশক, লেখক লিটল ম্যাগ সহাবস্থান। সকলেরই চেষ্টা সেরা বইটি যেন এই উপলক্ষ্যেই প্রকাশিত হয়। এখানেই সুযোগ প্রকাশক-লেখক-পাঠকের মুখোমুখি মত বিনিময়ের। কলকাতা আন্তর্জাতিক বই মেলায় একেক বছর একেক দেশকে ভাবনায় স্থান দিয়ে বিশেষ মাত্রা এনে দিয়েছে। সুযোগ হচ্ছে বিদেশী বই, বিদেশী সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়ার। বইপ্রেমী মানুষের কাছে কলকাতা বই মেলা এক বিশেষ প্রাপ্তি। নানা ভাষা, নানা মত সবের সাথে মিলেমিশে, সরকারি সহযোগিতায় সার্থক হোক বই উৎসব কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা, যাকে বলা যেতেই পারে কলকাতা বই বর্ষ – ২০২৬।
অমিতাভ শীল, কলকাতা দূরদর্শনের নিয়মিত স্ক্রিপ্ট লেখক এবং সাহিত্যিক
সেই কোন ছোটবেলা থেকে কলকাতা বইমেলার ধুলো ওড়া প্রাঙ্গণে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পায়ে পায়ে হেঁটে বেড়ানো , আর ছটো বড় সমস্ত স্টলে প্রিয় পছন্দের বইয়ের সন্ধনে ঘুরে বেড়ানোর অজস্র স্মৃতি মস্তিষ্কে সঞ্চিত হয়েছে একটু একটু করে। যৌবনকালের যেসব সুখের মুহূর্ত মনে করে আজও আনন্দ পাই তাদের মধ্যে বইমেলায় কাটানো বেশ কিছু মুহূর্তও আছে বৈকি! আমার নিজের লেখা দুটি উপন্যাস প্রকাশ পায় কলকাতা বইমেলায়। প্রিয় বান্ধুবান্ধবীদের লেখা বই সংগ্ৰহ করা , আর নিজের লেখা বই তাদের উপহার দেওয়া এইসব মুহূর্তের অন্যতম। আবার এই বইমেলাকে ঘিরেই রয়েছে দুঃখজনক এক ভয়াবহ স্মৃতি। ১৯৯৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি এক বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে বিপুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বইমেলা। এক লক্ষেরও বেশি বই পুড়ে ছারখার হয়ে গেছিল সেদিন। দেখতে দেখতে কতটা পথ পেরিয়ে এল কলকাতা পুস্তকমেলা। ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল, ১৯৮৪ সালে লাভ করল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। আমরা যারা সামান্য লেখালেখির চেষ্টা করি তাদের কাছে কলিকাতা পুস্তকমেলা খুব বড় একটা প্ল্যাটফর্ম । আমাদের অনেক স্বপ্ন , অনেক আবেগ জড়িয়ে থাকে এই মেলাকে ঘিরে। আবার ২০২৬ য়ের বইমেলা শুরু হতে যাচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এ বছরও কলকাতা বইমেলার সাফল্যের ঝুলি উপুড় হয়ে উঠুক এই শুভেচ্ছা রাখলাম।
রীতেশ ঘোষ, কবি, বাচিক শিল্পী ও রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বাচিক সংসদের কর্ণধার
বই মেলা আমার কাছে আবেগ। একটা সময় সোশ্যাল মিডিয়া ছিলো না। টিভি বলতে দূরদর্শন। আমার কাছে বই ছিলো অদ্ভুত ভালোলাগার জায়গা। আগে ময়দানে বইমেলা হত। আসলে নতুন বইয়ের গন্ধই আলাদা। ২০০৩-এ আমার প্রথম বইমেলাতে কবিতা আকারে প্রকাশ পায়, সেই শুরু। আর সকল বইমেলার অনুরাগীদের শুভেচ্ছা ২০২৬-এর বইমেলার জন্য।
অরূপ কুমার সরকার, কবি ও সাহিত্যিক
প্রথমেই আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই আন্তর্জাতিক বইমেলা কলকাতার পরিচালক মন্ডলীকে। বিভিন্ন দেশের প্রকাশনী ও আমাদের দেশের অনেক প্রকাশনী এই বইমেলাতে আসেন। সব মানুষের ইচ্ছেপূরণ হয় উক্ত বইমেলাতে। সকল শুভাকাঙ্খী বন্ধু গভীর আগ্রহে বই সংগ্রহ করেন এখানে। সকল সাহিত্যিক, লেখক বন্ধুদের বই প্রকাশ হয় ও প্রচার হয়। স্বাস্থ্য ,বিজ্ঞান, আধ্যাত্বিক, লেখাপড়ার বই সব কিছু পাওয়া যায় এই বই মেলাতে। ছাত্র, ছাত্রীরাও খুব উপকৃত হয়। সফল হোক বই মেলা। বিশ্বের নানা প্রান্তে বিস্তার লাভ করুক এই কামনা করি।






































Discussion about this post