নদীয়ার মাটিতে জন্ম নেওয়া এক ক্রীড়াবিদের জীবন হঠাৎ করেই প্রশ্নবিদ্ধ, অনিশ্চিত। যে মানুষটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের পতাকা উড়িয়েছেন, তাঁকেই শুনতে হল, “বাংলাদেশ থেকে কবে এসেছেন?” আতর আলী; রানাঘাটের এই প্যারা অ্যাথলিট আজ নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। সামনে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। কিন্তু তাঁর লড়াই এখন মাঠে নয়, কাগজে-কলমে নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়ার।
ঘটনার সূত্রপাত নির্বাচন কমিশন পরিচালিত ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায়। রানাঘাটের বাসিন্দা আতর আলির নাম আচমকাই তালিকা থেকে ‘ডিলিট’ হয়ে যায়। সমস্ত বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ছুটতে হয় এসডিও, বিডিও অফিস থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের দফতরে। অভিযোগ, শ্রীকান্ত পল্লী-এর মতো উচ্চপদস্থ আধিকারিকও তাঁকে প্রশ্ন করেন তাঁর ‘বাংলাদেশ’ সংযোগ নিয়ে। যা আতর আলির মতো একজন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদের জন্য শুধু অপমানজনকই নয়, গভীরভাবে উদ্বেগজনক।
এই ঘটনা একক নয়। এসআইআর প্রক্রিয়ার পর লক্ষ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও পরবর্তীতে অনেক নাম পুনরায় যুক্ত হয়েছে, তবুও বহু মানুষ এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। অভিযোগ উঠছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারকে খর্ব করার চেষ্টা চলছে, যার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। বিরোধী মহলের দাবি, এই ধরনের ‘ত্রুটি’ আদতে পরিকল্পিত, যাতে নির্বাচনে সুবিধা পায় ভারতীয় জনতা পার্টি।
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। বাংলার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ স্পষ্ট। যে রাজ্য নিজের ক্রীড়াবিদকে সম্মান দেয়, সেই রাজ্যেই সেই গর্বকে যদি নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হয়, তবে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বৃহত্তর অবমাননার প্রতীক। এই ক্ষোভই ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হবে বলে মনে করছেন অনেকেই। ভোটের সেই জবাব যে কঠোর হতে পারে, তা নিয়ে আর সংশয় রাখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও।





































Discussion about this post