মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬ লোকসভায় পাশ হয়েছে ‘Transgender Persons (Protection of Rights) Amendment Bill, 2026’। ১৩ মার্চ বিলটি পেশ করেছিলেন সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রী বীরেন্দ্র কুমার। বিরোধীদের ওয়াক-আউটের মধ্যেই বিলটি গৃহীত হয়, যা নিয়ে তৎক্ষণাৎ বিতর্ক শুরু হয়। পরের দিন, বুধবার ২৫ মার্চ, সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা নিযুক্ত এক উপদেষ্টা কমিটি, প্রাক্তন বিচারপতি আশা মেননের নেতৃত্বে, বিলটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করে। একই দিনে বিলটি রাজ্যসভায় পেশ হওয়ার কথা থাকলেও বাড়তে থাকা বিতর্কের জেরে তা স্থগিত রাখা হয়। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, কমিটি মনে করছে এই সংশোধনী সংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ২০১৪ সালের ঐতিহাসিক নালসা বনাম ইউনিয়ন অফ্ ইন্ডিয়া মামলার রায়, যেখানে বলা হয়েছিল লিঙ্গ পরিচয় ব্যক্তির নিজস্ব মানসিক অনুভূতির বিষয় এবং সেলফ আইডেন্টিফিকেশনই চূড়ান্ত। কিন্তু নতুন বিলে বলা হয়েছে, ‘রূপান্তরকামী’ পরিচয়ের জন্য মেডিক্যাল বোর্ডের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। বিরোধীদের দাবি, এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য। যদিও কেন্দ্রের বক্তব্য, সামাজিকভাবে বঞ্চিত মানুষদের সুরক্ষা দিতে কঠোর শাস্তির বিধান। যেমন নির্যাতনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড প্রয়োজনীয়। তবু মানবাধিকার সংগঠনগুলি বলছে, আইনি সুরক্ষার আড়ালে পরিচয়ের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মতে, এই বিল সমকামী ও রূপান্তরকামী মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে পারে। ভারতে যেমন, তেমনি বিশ্বজুড়েই LGBTQ+ সম্প্রদায় এখনও বৈষম্য, সহিংসতা এবং সামাজিক বর্জনের শিকার। আইনি স্বীকৃতি থাকলেও বাস্তবে তাদের মানবিক মর্যাদা প্রায়ই অস্বীকৃত হয়। তাই সমাজের জন্য জরুরি, তাদের “অন্য” হিসেবে নয়, সমান অধিকারসম্পন্ন মানুষ হিসেবে দেখা। এই বিতর্ক আবারও সামনে আনল সেই প্রশ্ন; আইন কি শুধুই নিয়ন্ত্রণ করবে, নাকি মানুষের মর্যাদা রক্ষার পথ প্রশস্ত করবে?






































Discussion about this post