দক্ষিণ লেবাননের জেজিন শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আল-মায়াদিনের সাহসী সাংবাদিক ফাতিমা ফতউনি নিহত। এই ঘটনায় আবারও বিশ্বজুড়ে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই একই ধরনের হামলায় তাঁর পরিবারের সাত সদস্য নিহত হন, যার মধ্যে ছিলেন তাঁর ভাই চিত্রসাংবাদিক মোহাম্মদ ফতউনি। তবুও তিনি পিছু হটেননি; যুদ্ধের ময়দানেই থেকে গেছেন সত্য তুলে ধরার দায়িত্ব নিয়ে। এই আত্মত্যাগ শুধু একজন সাংবাদিকের মৃত্যু নয়, এটি যুদ্ধক্ষেত্রে সত্যের কণ্ঠরোধের নির্মম উদাহরণ। ফাতিমার মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দিল সংবাদ সংগ্রহ কখনো কখনো জীবনের বিনিময়েও অর্জিত হয়।
যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের প্রাণহানির ইতিহাস দীর্ঘ। ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইরাক, আফগানিস্তান কিংবা সাম্প্রতিক গাজা; প্রতিটি সংঘাতেই সাংবাদিকরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, গত দুই দশকে শত শত সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অনেকেই সরাসরি সামরিক হামলার শিকার। গাজায় সাম্প্রতিক সংঘাতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। যুদ্ধের বাস্তবতা তুলে ধরতে গিয়ে তারা হয়ে উঠছেন লক্ষ্যবস্তু, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বর্তমান সময়ে ইজরায়েল ও লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছে এবং এই প্রেক্ষাপটে বেসামরিক নাগরিক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ফাতিমা ফতউনির মতো সাহসী কণ্ঠগুলি নিঃশেষ হচ্ছে। যুদ্ধ অবশ্যই কোনো সমাধান নয়। যুদ্ধ বয়ে আনে শুধু ধ্বংস, মৃত্যু ও নীরবতা। ফাতিমার আত্মত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়; শান্তির জন্য এখনই আওয়াজ তোলা জরুরি। মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা ও সহানুভূতি জাগিয়ে তোলা জরুরি।






































Discussion about this post