তামিলনাড়ুর এক BlinkIt ডেলিভারি পার্টনার আজ গোটা সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে হয়ে উঠেছেন একজন হিরো। শুধুমাত্র অর্ডার ডেলিভারি করেই নয়, এই ডেলিভারি বয় সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন নিজের অসাধারণ বুদ্ধি আর পরিস্থিতি বুঝে কাজ করার ক্ষমতার জন্যেও। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই জানা গেছে এই ডেলিভারি বয় নাকি একজন মহিলার জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছেন নিজের চাকরির চিন্তা না করেই। কিন্তু কিভাবে? চলুন তাহলে আজকে এটাই বিস্তারে জেনে নেওয়া যাক।
ঘটনাটা ছিল একেবারেই সাধারণ একটি কাজের দিনের। অনেক রাতের দিকে তাঁর ফোনে একটি অর্ডার আসে, তিন প্যাকেট ইঁদুর মারার বিষ। নিয়ম মেনেই তিনি অর্ডারটি নিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছান। কিন্তু সেখানেই ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত ঘটনা। তিনি ফোন করতেই দেখেন, ওপাশ থেকে এক মহিলা অঝোরে কাঁদছেন। তাঁর কণ্ঠস্বর শুনেই বোঝা যাচ্ছিল তিনি খুব ভেঙে পড়েছেন। এত রাতে বিষের অর্ডার আর সেই কান্না—ডেলিভারি বয়ের মনে সন্দেহ জাগে। তিনি বুঝে যান, কিছু একটা খুব ভুল হতে চলেছে।
ঠিক তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, আজ নিয়মের চেয়েও মানুষের জীবন বেশি জরুরি। তিনি অর্ডারটি বাতিল করে দেন এবং বিষের প্যাকেটগুলো মহিলার হাতে না দিয়ে নিজের কাছেই রেখে দেন। এরপর তিনি তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন, বোঝান যে জীবন খুব দামী, আর কোনো সমস্যার সমাধান আত্মহত্যা হতে পারে না। পরে এক ভিডিওতে তিনি বলেন, “ওঁর অবস্থা দেখে আমার খুব খারাপ লেগেছিল। মনে হয়েছিল, যদি বিষগুলো দিয়ে দিই, তাহলে বড় একটা বিপদ হতে পারে। তাই আমি আর দিইনি। আজ ভাবতে ভালো লাগে যে আমি হয়তো একজনের প্রাণ বাঁচাতে পেরেছি।”
এই ঘটনার পর ইন্টারনেটে মানুষ এই ডেলিভারি বয়ের প্রশংসায় ভাসিয়ে দিয়েছেন। অনেকেই লিখেছেন, “সব হিরো সিনেমায় থাকে না, কেউ কেউ আমাদের চারপাশেই থাকে।” এই ঘটনাই প্রমাণ করে দেয়—মানুষ আজও শুধু নিয়ম মানা যন্ত্র নয়। সময়মতো একটু মানবিক হওয়াই কারও জীবনে আলো এনে দিতে পারে।






































Discussion about this post