আসামে আদিবাসী জনগণের উপর দীর্ঘদিন ধরে চলা নৃশংস অত্যাচার, উচ্ছেদ ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে শুক্রবার কলকাতায় আসাম ভবন অভিযান সংগঠিত হল। বেলেঘাটা সিআইটি মোড় থেকে শুরু হয়ে এই মিছিলটি পরিবেশ ভবন পেরিয়ে আসাম ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। অভিযান চলাকালীন আসামের মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুতুল দাহ করা হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ১৯৯৬, ১৯৯৮ ও ২০১৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে আসামের আদিবাসীরা হামলা, গণহত্যা ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার শিকার হয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কোকরাঝাড় জেলার কারিগাঁও গ্রামে পুলিশি সহায়তায় ২৯টি আদিবাসী পরিবারের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। যার ফলে শতাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৯ জানুয়ারি একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যার পরদিন জাতীয় সড়ক অবরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে আদিবাসী গ্রামগুলিকে টার্গেট করা হয়। অভিযোগ, স্করপিও গাড়িতে চাপা দিয়ে এক আদিবাসী যুবক সুনীল মুর্মুকে হত্যা করা হয় এবং আরেকজন গুরুতর আহত অবস্থায় গুয়াহাটিতে চিকিৎসাধীন। পাশাপাশি গড়িনগর গ্রামে ভাঙচুর করে ও ভয় দেখিয়ে ১৯ জন আদিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি। আন্দোলনকারীদের মতে, বিটিসি এলাকা ও তথাকথিত বড়োল্যান্ড আন্দোলনের আড়ালে আদিবাসীদের উচ্ছেদের পরিকল্পনা চলছে, যার প্রতি আসাম সরকার নীরব সমর্থন জোগাচ্ছে।

এই প্রেক্ষিতে ভারত জাকাৎ সান্তাড় পাথৌয়া গাঁওতা ও যুব সংগঠন যুওয়ান মাডওয়ার উদ্যোগে ১১ দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবির মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, নিরপরাধ গ্রেপ্তারদের মুক্তি, পুনর্বাসন, নিরপেক্ষ এসআইটি তদন্ত, শিক্ষার্থীদের নথিপত্র পুনরায় ইস্যু এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শৈলেন বেসরা জানান, আসামে শান্তি ফেরাতে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবে আদিবাসী সমাজ।






































Discussion about this post