কলকাতার খুব কাছেই দু-তিন দিনের ছুটিতে ঘুরে আসার জন্য একদম পারফেক্ট একটি অফবিট ডেস্টিনেশন হল ঘোড়াহাদা। ওড়িশার সবুজে ঘেরা এই জায়গাটি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এখন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তিন দিক পাহাড়ে ঘেরা বিস্তীর্ণ জলাধার, ঘন বনভূমি আর শান্ত পরিবেশ—সব মিলিয়ে এখানে এলে শহরের কোলাহল ভুলে যাওয়া যায় খুব সহজেই। বর্ষাকালে এই অঞ্চলের সৌন্দর্য্য যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়, আর প্রকৃতির রঙে রঙিন হয়ে ওঠে চারপাশ।

ঘোড়াহাদায় গেলে শুধু প্রকৃতি নয়, আশপাশের নানা দর্শনীয় স্থানও ঘুরে দেখা যায়। কাছেই রয়েছে চিল্কা হ্রদ, যেখানে পাখি দেখা ও নৌবিহারের অভিজ্ঞতা অনন্য। এছাড়া বারকোল ও ভেটনই এলাকা পেরিয়ে এই জায়গায় পৌঁছনোর পথটাও ভীষণ মনোরম। বিস্তৃত জঙ্গলে কৃষ্ণসার হরিণের দেখা মিলতে পারে। আর জলাধারের ধারে সময় কাটাতে কাটাতে সূর্যাস্ত উপভোগ করা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। কাছেই পুরনো শিবমন্দিরও রয়েছে, যেখানে বিশেষ করে শ্রাবণ মাসে ভক্তদের ভিড় চোখে পড়ে।

এখানে থাকার জন্য রয়েছে ঘোড়াহাদা নেচার ক্যাম্প, যা ওড়িশা সরকারের একটি ইকো-ট্যুরিজম প্রকল্প। এই ক্যাম্পে এসি ও নন-এসি কটেজের সুবিধা রয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব ও আরামদায়ক। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ডাবল বা ট্রিপল শেয়ারিংয়ে থাকা যায় এবং খাবারও প্যাকেজের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকে। বুকিং করতে হয় ecotourodisha.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে, যেখানে অনলাইনে পরিচয়পত্র জমা দিয়ে পেমেন্ট করলেই বুকিং কনফার্ম হয়।

কলকাতা থেকে ঘোড়াহাদায় পৌঁছনোও বেশ সহজ। ট্রেনে গেলে বালেশ্বর বা ভুবনেশ্বরে নেমে সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে যেতে হয়। সড়কপথে গেলে বালেশ্বর হয়ে ভদ্রক-কটক রুট ধরে ভুবনেশ্বর পৌঁছে তারপর প্রায় ১৩০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। শেষের কিছুটা রাস্তা একটু এবড়োখেবড়ো হলেও পুরো যাত্রাপথটাই ভীষণ উপভোগ্য। সব মিলিয়ে, অল্প সময়ের ছুটিতে প্রকৃতির মাঝে নিরিবিলি সময় কাটাতে ঘোড়াহাদা সত্যিই এক অসাধারণ গন্তব্য।
চিত্র ঋণ – উৎপল নাগ, গঞ্জাম কলিং






































Discussion about this post