কমিশনের নির্দেশে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নাম তোলার বিশেষ অভিযান। কিন্তু এই মহৎ উদ্দেশ্যই এখন সাধারণ মানুষের কাছে বিভীষিকায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের শিবিরে গিয়ে চূড়ান্ত হেনস্তা ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের।

বিপত্তির মূলে পরিকাঠামো ও চূড়ান্ত অব্যবস্থা অভিযোগ, অধিকাংশ শিবিরেই ন্যূনতম পরিকাঠামো নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে বৃদ্ধ থেকে শুরু করে মহিলারা। অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত ফর্ম পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। আবার কোথাও বিএলও (BLO)-দের অসহযোগিতা এবং দুর্ব্যবহারের কারণে কাজ না সেরেই ফিরতে হচ্ছে অনেককে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেটের ধীর গতির কারণে অনলাইন আবেদন করতে গিয়েও নাজেহাল হতে হচ্ছে মানুষকে।

ভুল সংশোধনের জন্য বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও অনেকের নাম তালিকায় উঠছে না অথবা নাম-ঠিকানায় নতুন ভুল থেকে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে থাকা সত্ত্বেও আধিকারিকরা সেগুলিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন বলে দাবি সাধারণ মানুষের। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক বাসিন্দা জানান, “সকাল ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছি, কিন্তু দুপুরে বলা হলো লিঙ্কে সমস্যা আছে। একদিনের কাজের ছুটি নিয়ে এসেও কাজ হলো না।” ভোটের আগে এই ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও কম নয়। এক পক্ষের অভিযোগ, শাসকদল সুকৌশলে ভোটার তালিকা থেকে বিরোধীদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের দাবি, স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই কড়াকড়ি করা হচ্ছে। তবে এই দুই পক্ষের লড়াইয়ের মাঝে পড়ে সাধারণ ভোটাররা কার্যত দিশেহারা।

যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজের চাপ সামলাতে কর্মীদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হচ্ছে এবং যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের চেষ্টা চলছে। তবুও বাস্তবের ছবিটা বলছে অন্য কথা। নিবিড় সংশোধনের এই শিবিরগুলো সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা দুর্ভোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শীঘ্রই ব্যবস্থার উন্নতি না হলে অনেক যোগ্য ভোটার তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন ও চিত্র ঋণ – সুমন পাত্র






































Discussion about this post